আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৩:৫৯ পিএম

ছবি-অভিযোগপত্র
বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাস্তাঘাট, ড্রেন, ব্রীজ, স্কুলসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজে তার অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে গত রবিবার (১৬ মার্চ) বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একাধিক বিএনপি নেতা।
অভিযোগ
সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলা এলাকাতে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম
করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলীদের তত্বাবধানে ঠিকাদার দিয়ে
প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করা হয়। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থী প্রকৌশলী
রিপন কুমার সাহা তার ব্যক্তিগত সুবিধায় ঠিকাদারদের সহযোগিতা করে আসছেন। ২০২২ সালের
৩ অক্টোবরে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর ওই সময়ে উপজেলা আওয়ামী
লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে।
এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পছন্দের ঠিকাদাররা নামমাত্র কাজ করলেও তিনি বাধা নিষেধ
করতেন না। ফলে নির্মাণ কাজগুলো বছর পেড়িয়ে যেতেই গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম
হয়। নিম্নমানের সামগ্রী ইট, পাথর, বালু, সিমেন্ট, পুরাতন লোহার রড নির্মাণকাজে ব্যবহার
করেলেও ঠিকাদারদের কাজে তিনি গুরুত্ব দিতেন না।
স্থানীয়
জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর গোপনে বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা নিয়ে ঠিকাদারদের অনিয়মের
কাজে সহযোগিতা করতেন। সম্প্রতি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম অন্তাহার স্কুল ভবন নির্মাণে নিম্নমানের
সামগ্রীর ব্যবহারের অভিযোগ আসে। পরে এ ঘটনার এর সত্যতা পাওয়া গেল কিছুদিন বন্ধ রাখার
পর পুনরায় কাজ চালুর অনুমতি দেন তিনি। আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবন
নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে চারপাশে দেওয়ালে শ্যাঁওলা, ফাঁটল, প্লাস্টার
খসে পড়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। দমদমা গ্রামে একটি রাস্তার কার্পেটিং কাজের একদিন
পরেই পাথরসহ পিচ উঠে যাচ্ছিলো প্রকৌশল দপ্তর জেনেও তার সমাধান করেনি। তাছাড়াও কড়ই এলাকায়
রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় প্রতিবাদ করে এলাকাবাসী। চাঁপাপুর
এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণে পুরাতন লোহার রড ও কাঠের সার্টারের বদলে বাঁশ ব্যবহারের
ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছাতিয়ানগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং
হস্তান্তরের আগেই দেওয়ালে নোনা, ফাঁটল সহ প্লাস্টার উঠে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা। তাঁরাপুর স্কুলের প্রাচীর নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
ওঠে।
এ
ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা জানান, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। আমার
বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
বগুড়া
জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে
দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।